অনলাইন মার্কেটপ্লেসে কাজ করতে এসে আপনারা খুব ভালভাবে জানেন কাজ পাওয়ার জন্য এবং ব্যবসায়িক সুসম্পর্ক গড়ে তুলতে আপনার প্রোফাইল/প্রোপোজাল-টির গুরুত্ব কতখানি। আজকের এই লেখায় আপনাদের আরো বেশিমাত্রায় কাজ পাওয়ার উপযোগী ৮টি উপায় জানাচ্ছি। নতুন কাজে বিড করার আগে আপনার কাজ এই ৮টি উপায় ভালভাবে পরে সেভাবে আপনার নিজেকে তৈরী করা।

১। ইউনিক প্রোফাইল তৈরী
অনেকের প্রোফাইল ব্যক্তিগত তথ্যে সাজানো থাকে কিন্তু এটা ক্লায়েন্টের কাছে উল্লেখযোগ্য কিছু না। তারা দেখতে চায় আপনি তার কাজ করার যোগ্যতা রাখেন কিনা। তারা আপনার কাছে তাদের সমস্যার সমাধান জানতে চায়, আপনার বয়স বা আপনার সন্তানের নাম জানতে চায়না। আপনার কাজের অভিজ্ঞতা দিয়ে প্রমান করুন অন্যান্য প্রতিযোগীদের মধ্যে আপনি অধিক যোগ্যতা সম্পন্ন । প্রমান করুন এ ধরনের কাজে আপনি সফল।
প্রোফাইলে আপনার অর্জিত সফলতাগুল তুলে ধরুন। যেমন- সাবেক ক্লায়েন্টের কাজের বিস্তারিত, আপনার অভিজ্ঞতা, কাজ থেকে পাওয়া শিক্ষা, পুরষ্কার, সাফল্য, প্রশংসাপত্র ইত্যাদি। উল্লেখ করুন আপনি যদি কোন ঐতিহ্যবাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়ালেখা করেছেন অথবা বিশেষ কোন কোম্পানীতে কাজ করেছেন অথবা আপনার কাজের ক্ষেত্রে অর্জিত বিশেষ সাফল্য। যেমন- বিখ্যাত কোন পত্রিকায় আপনার লেখা আর্টিকেল, আপনার ডিজাইনকৃত ওয়েবসাইটের জনপ্রিয়তা, বা আপনার তৈরিকৃত ভিডিওর ব্যপক প্রসারতা। এসব কিছুই আপনার কাজের প্রতি আগ্রহ, দক্ষতা, আপনার সাফল্য প্রকাশ পায়।
সার্ভিস ডেসক্রিপশন এবং কী ওয়ার্ড সেকশনের প্রতি অনেক বায়ারের-ই আকর্ষণ থাকে তাই সময় নিয়ে এই দুটো বিভাগ পূরণ করুন। সবশেষে সফল ফ্রিল্যান্সারদের প্রোফাইলগুলো ভালোভাবে দেখুন।
২। আদর্শ ক্লায়েন্ট প্রোফাইল তৈরী
অবাক হচ্ছেন?? আপনি কাজ করতে চাচ্ছেন আর বলা হচ্ছে ক্লায়েন্ট প্রোফাইল তৈরির কথা? হ্যা, তাই। আসলে অনেক ফ্রিল্যান্সার আছে যারা সব কাজেই বিড করে, পারুক বা না পারুক।এটা ভুল, এতে সময় নষ্ট হয়। এটা অনেকটা চোখ বেঁধে বোর্ডে ডার্ট ছোঁড়ার মতো। আপনি হয়ত একবার লক্ষ্যভেদ করতে পারবেন কিন্তু তাতে আপনার সময়, তাকা, সম্মান সবই যাবে।
কোন জবে বিড করতে করতে তৈরী করুন একটি ক্লায়েন্ট প্রোফাইল। এটি আপনাকে যেসব ক্লায়েন্টদের সাথে কাজ করতে চান তাদের সম্পর্কে ধারণা দিবে।কিছু প্রশ্নের মাধ্যমে এধরণের ক্লায়েন্টদের খুজে পাওয়া যাবে। যেমন-
আদর্শ ক্লায়েন্টের সার্বিক অবস্থা কি?( বয়স, লিঙ্গ, ঠিকানা, শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং আয়ের প্রমাণ)
কি ধরণের প্রতিষ্ঠানে তারা কাজ করে?
তাদের প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিসর কেমন-বড়, মধ্যম, ছোট?
তারা কি লাভজনক বা অলাভজনক সেক্টরে কাজ করে?
কোন ধরণের মার্কেটে তাদের প্রতিষ্ঠান কাজ করে?
কেন আপনি এধরণের ক্লায়েন্টদের সাথে কাজ করতে চান?
কি ধরণের কাজ তারা করায়?
তাদের বাজেটসীমা কত?
কী ধরণের ক্লায়েন্ট আপনার টার্গেটকৃত সাফল্য পেতে সাহায্য করবে?
একবার যখন আপনি একজন আদর্শ ক্লায়েন্টের পরিষ্কার ধারণা পেয়ে যাবেন তখন আপনি শুধু এদিকেই মনযোগী হতে পারবেন। সব কাজে বিড করার প্রয়োজন হবেনা। এতে আপনার সময় বাঁচবে ।
৩। দারুণ একটি প্রোপোজাল তৈরী করুন
মনে রাখবেন, এইখানে আপনি আপনার যোগ্যতা প্রতিষ্ঠিত করছেন তাই ক্লায়েন্টের চোখে এক নজরেই আপনাকে যোগ্য মনে করানোটাই সাফল্যের প্রথম চাবিকাঠি।
কাট-কপি-পেস্ট করে প্রোপোজাল তৈরী করাটা বুদ্ধিমানের কাজ না, এটি আপনার প্রতি ক্লায়েন্টদের বিরূপ ধারণা তৈরী করবে। আসুন দেখি একটি সঠিক প্রোপোজাল-এ কী কী থাকতে হবে-
কাজটি সম্পর্কে ক্লায়েন্টের চাহিদা জানা।
ক্লায়েন্টের কোন সাজেশন জানতে চাওয়া।
যদি ক্লায়েন্টের মত অনুযায়ী কাজটির ক্ষেত্র সঠিক না হয় তবে তা ক্লায়েন্টকে বুঝিয়ে দেওয়া।
কোন বিষয় পরিবর্তন করলে কাজটি সুন্দর হবে সেই অভিমত দেয়া যায়।
আপনি কিভাবে কাজটি করবেন তার নমুনা দেয়া।
কাজটি সম্পন্ন করতে আপনার কতদিন লাগবে।
আপনার করা এধরনের কাজের উদাহরণ।
এই বিষয়গুলো যদি আপনার প্রোপোজালে গুছিয়ে লেখা থাকে তবে ক্লায়েন্ট বুঝবে আপনি কাজ জানেন, ব্যবসা বোঝেন, তার কাজের জন্য আপনিই উপযুক্ত। মনে রাখবেন, বায়াররা আপনার থেকে তাদের সমস্যা এবং লক্ষ্য নিয়ে চ্চিন্তা করতে বেশি আগ্রহী। তাই প্রোপোজালটি আপনার নিজস্ব কথা দিয়ে না সাজিয়ে ক্লায়েন্টের সমস্যা এবং তার সমাধানের পরিকল্পনা দিয়ে সাজান। যদি আপনি তা করতে পারেন তবে পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে ক্লায়েন্ট আপনার প্রোফাইল দেখতে আসবে।
৪। স্কিল টেস্ট দিন
ইল্যান্সের এক সার্ভেতে দেখা গেছে, ৭৭% ক্লায়েন্ট স্কিল টেস্টের রেজাল্ট দেখে এবং ভাল রেজাল্টের অধিকারী ফ্রিল্যান্সারদের তাদের কাজ দেয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এ্যটি প্রায় ৫ জন ক্লায়েন্টের ৪ জন ই করে থাকে।তাই যত বেশি সম্ভব স্কিল টেস্ট দেয়া উচিত অবশ্যই আপনার কাজের ক্যাটাগরিতে। এছাড়া ইংরেজী বিষয়ে অনেক রকম টেস্ট আছে সেগুলো বেশি করে দেয়া উচিত।
8 tips to get more jobs
৫। গ্রুপে জয়েন করুন
ইল্যান্স গ্রুপে জয়েন করার মাধ্যমে আপনার পেশাগত দক্ষতা বিভিন্ন পৃষ্ঠপোষক কোম্পানী যেমন- এডোবি ফটোশপ, মাইক্রোসফট এক্সেল দ্বারা স্বীকৃত হয়। গ্রুপে আপনার প্রোফাইল শো করলে আপনাকে বায়ারদের খুজে নিতে এটি সাহায্য করবে।
৬। দ্রুত কার্যকরী হোন
যখনি আপনি একটি কাজ দেখলেন যেটি আপনার কাজের ক্ষেত্র এবং দক্ষতার সাথে মিলে যাচ্ছে তখনি দ্রুত আপনার প্রোপোজাল তৈরী করুন সঠিকভাবে। এরপর বিড করুন। যত দ্রুত আপনি রেসপন্স করবেন আপনার প্রোপোজালটি ক্লায়েন্টের চোখে পড়ার সম্ভাবনা ততই বেশি। ক্লায়েন্ট যদি আপনাকে ইন্টারভিউ এর জন্য ডাকে তবে দ্রুত সাড়া দিন
৭। নিজের মর্যাদা বজায় রাখুন
এখনও পর্যন্ত ইল্যান্সের সার্ভেতে দেখা গেছে, ফিডব্যাক একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ৫-স্টার ফিডব্যাক পেতে হলে আপনার কাজটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শেষ করতে হবে, ক্লায়েন্টের সাথে ভদ্র আচরণ এবং নিয়মিত যোগাযোগ রাখতে হবে। অযথা ক্লায়েন্টকে আপনার কোন কথা বা আচরণ দিয়ে বা ক্লায়েন্ট যখন যোগাযোগ করবে তাতে সাড়া না দিয়ে নিজের মর্যাদা নষ্ট করবেন না। এতে ক্লায়েন্ট বিরক্ত হয়ে খারাপ ফিডব্যাক দিতে পারে অথবা আপনার বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে পারে ফলে আপনি আপনার প্রোফাইলটি হারাতে পারেন চিরতরে।
৮। সবসময় কানেক্টেড থাকুন
ক্লায়েন্ট প্রজেক্ট সম্পর্কে আপনার বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিয়ে, যেকোন তথ্য দিয়ে সাহায্য করে প্রজেক্ট সম্পন্ন করার প্রতিই বেশি আগ্রহী থাকে। তাই ক্লায়েন্টদের সাথে যোগাযোগ রাখাটা গুরুত্বপূর্ণ। যদি আপনার কাছে এমন মোবাইল থাকে যা ইন্টারনেট সংযুক্ত তাহলে আপনার ইমাইলের মাধ্যমে ইল্যান্সের সাথে সংযুক্ত থাকুন, যাতে ক্লায়েন্ট আপনার প্রোফাইলে মেইল করার সাথে সাথে আপনি তার সাথে যোগাযোগ করতে পারেন।
tips for elance
এই নিয়মগুলো যদি আপনি সঠিকভাবে মেনে চলতে পারেন সাফল্য আপনার হাতে ধরা দেবেই। এখন আপনার কাছে আছে ৮ টি দারুণ উপায়, কাজে লাগান, আরো বেশি কাজ পাওয়ার উপযোগী হয়ে উঠুন। শুভ কামনা রইল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *